শিরোনাম
তারেকুল আলম | ০২:১১ পিএম, ২০২১-০৯-৩০
আগামীকাল ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। জাতিসংঘ দিবসটি প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় ১৯৯০ সালে। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে এ দিবসটি জাতিসংঘ আন্তর্জাতিকভাবে পালন করা শুরু করে। বিশ্ব যখন ধীরে ধীরে আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করে তখন থেকেই ধীরে ধীরে প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার ভয়াবহ রূপে কমতে থাকে এবং হুমকির মুখে পড়ে। প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার বঞ্চিতের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হওয়া। এছাড়াও ছেলে মেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধে শিক্ষিত না করা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবও আরো একটা বড় কারণ। বিশ্বায়ন ও আধুনিকতার যুগে জীবন- জীবীকার তাগিদে মানুষকে দেশ বিদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অবস্থান ও বসবাস করতে হয় তখন অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছে রাখা সম্ভব হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও ছেলে মেয়েরা পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছে রাখাতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছে রাখতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না প্রত্যেক পরিবারের পুত্র বঁধুরা। আমাদের সমাজের মেয়েরা তাদের বৃদ্ধ মা - বাবার জন্য যে টান বা যত্নশীল হয় তা শশুর- শাশুড়ীর বেলায় দেখায় না এবং তাদেরকে আপন করে নিতে পারে না। অথচ বার্ধক্য বয়সে প্রত্যেকের একমাত্র ও অদ্বিতীয় অবলম্বন হচ্ছে সন্তান। এটা শেষ আশ্রয় স্থল বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। মানুষ হয়তো শেষ বয়সে কথিত ঐ আশ্রয়ের জন্য সন্তান জন্ম দেয় এবং সারা জীবন খেয়ে না খেয়ে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তাদের বড় করে এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে। কিন্তু আমরা সন্তান হিসেবে শেষ পর্যন্ত কতটা মানুষ হতে পারি? পিতা -মাতা আমাদের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করে তাদের বার্ধক্যে আমরা কি তার সিকি ভাগও করতে পারি? বার্ধক্য বয়সে মানুষ শিশু সূলভ আচরণ করে। এটা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আমরা তাদের মানিয়ে নিতে পারি না। একটা ছোট শিশু যেমন আচরণ করে মানুষ বার্ধক্য বয়সে ঠিক তেমন আচরণ করে। এটা খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতে এটা প্রকাশ পেতে পারে। আমাদের সন্তান খেতে না চাইলে আমরা জোর করে বা তাদের পছন্দ মতো খাবার এনে খাওয়ানোর চেষ্টা করি কিন্তু এটা আমরা আমাদের বৃদ্ধ পিতা -মাতার বেলায় কখনো ভেবে দেখি না। হয়তো কেউ কখনো চিন্তাও করি নাই।
সন্তান হিসেবে প্রত্যেক ছেলে- মেয়ে তাদের পিতা- মাতার মঙ্গল কামনা করে এবং তাদের সেবা যত্নের খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ একজন মেয়ে হিসেবে আমরা কতটুকু আমাদের শশুর- শাশুড়ী কে আপন করে নিতে পারি? আমরা ছেলে- মেয়েরা নিজের মা- বারার জন্য যে ভালবাসা ও সেবা যত্ন প্রত্যাশা করি তা নিজের শশুর- শাশুড়ীর জন্য অনুভব বা প্রত্যাশা করি না। আর সন্তান হিসেবে ঘরের প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ নিজের স্ত্রীর প্রতিবন্ধকতা বা তার মন রক্ষা করে আমরা কতটুকু পারি মা- বাবার সেবা যত্ন করতে। যাদের একাধিক সন্তান আছে তারা বার্ধক্যে পৌঁছে পিতা- মাতা হিসেবে কোন ধরনের বাস্তবতা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়, বার্ধক্যে পিতা- মাতা কোথায়, কোন পরিবেশে ও কোন সন্তানের কাছে থাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ঐ বিশেষ সন্তানের কাছে থাকতে কেন সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। নাকি নিরুপায় হয়ে সেখানে থাকতে হচ্ছে করে, আমরা সন্তান হিসেবে কখনও কি এসব প্রশ্ন ভেবে দেখেছি? যদি সন্তান থাকার পরও বার্ধক্যে কোন পিতা- মাতাকে এসব নিয়ে ভাবতে হয়, এসব বিষয় তাদের পীড়া দেয় এবং নিরাপদ বোধ না করেন তাহলে সন্তান কেন? কার জন্য সন্তান? বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এই প্রশ্ন আসা একেবারে অবান্তর নয়। তারপরও সন্তানের অপরিহার্যতা রয়েছে। তারপরও আমাদেরকে একটা সময় বা বার্ধক্য বয়সে সন্তানের উপর নির্ভর হতেই হবে। এর বিকল্প কিছু নাই। আবার সন্তানের অপরিহার্যতা থাকলেও কতজন সন্তান আমাদের দরকার। একাধিক সন্তান থাকলে বার্ধক্য বয়সে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এসব বিষয়ও ভেবে দেখা দরকার। হয়তো তারা পরিবেশ পরিস্থিতি ও ভালো লাগা বিবেচনা করে কোন একটা সন্তানের কাছে থাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সেটা সেই সন্তানকে ভালো লাগা বিবেচনা করে নাও হতে পারে। সেটা হয়তো ঐশ্বরিক ইচ্ছা, বস্তুগত সংযোগ, নিজ বাস্তুভিটার মায়া বা নাড়ির টানেও হতে পারে । বেশি সন্তান থাকলে পিতা- মাতা কোন একজনের কাছে থাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করলে হয়তো অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনা করে সেই সন্তান পিতা- মাতার প্রতি অসন্তুুষ্ঠ হতে পারে। যদি সেই সন্তান এটা তার জন্য সৌভাগ্য বা নিয়ামত হিসেবে গ্রহণ না করে।আজ আমরা নিজেদের সন্তানের জন্য যতটুকু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে তাদের জন্য যে সম্পদ গড়ে তোলা ও রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছি আমাদের পিতা- মাতা কি সেই চেষ্টা আমাদের জন্য করেন নাই? তাহলে কেন একটা নির্দৃষ্ট সময় এসে তারা আমাদের কাছে বোঝা হয়ে যায়? আমরা কেন চিন্তা করি না তারাও একটা সময় আমাদেরকে বড় করে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। যা এখন আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য করতে মরিয়া হয়ে উঠেছি এবং সেই সন্তান জন্ম দিতে ব্যকুল হয়ে আছি। আমরা কেনইবা আমাদের স্ত্রীদের কাছে অন্তত পিতা- মাতার সুরক্ষা ও অধিকারের ব্যাপারে কঠোর হতে পারি না? এখানে হয়তো পিতা- মাতার একাধিক সন্তান থাকার কূফল কাজ করে। একমাত্র সন্তান হলে হয়তো কোন ধরনের হীনমন্যতা কাজ করতো না। তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘরের বউ অথবা আর্থিক যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে দিয়ে পিতা মাতার সেবা যত্ন করতে কোন ধরনের হীনমন্যতা বা স্বার্থপরতা কাজ করতো না। বৃদ্ধ মা- বাবার সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়ে কারো সাথে কোন ধরনের আপোষ করা উচিত নয়। প্রত্যেকের এসব বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। না হয় একটা সময় আসবে মানুষ সন্তানের প্রতি আস্তা হারিয়ে ফেলবে তখন মানুষ বন্য বা পশুত্বের জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে! সন্তানের এই প্রয়োজনহীনতার কারণে মনুষ্য প্রজাতির বিলুপ্তির শংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পাশ্চাত্যের আধুনিক দেশগুলোতে মানুষ সন্তানের উপর নির্ভরশীলতা হারিয়ে ফেলেছে তারা এখন সন্তান ধারণ ও লালন- পালনে অনিহা বোধ করেন । পশ্চিমা বা পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে তা এখন স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়ে ফুটে উঠছে। তাই প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তার প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে প্রবীণদের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ সরকারও দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাশাপাশি বয়স্ক ভাতাও দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত হবে প্রবীণদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের অধিকার, সেবা ও মানষিক সুরক্ষার জন্য কাজ করা। প্রয়োজনে আইন করে প্রবীণদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক - তারেকুল আলম।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মে. জে. (অব.) এইচআরএম রোকন উদ্দিন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে একটি নীরব যন্ত্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেজর (অব.) মনজুর কাদের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘চীনকে ঘুমাতে দাও; যখন সে জেগে উঠবে, সে বিশ্বকে কা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কাজী আব্দুল্লাহ আল বোরহান রিজভী বাংলাদেশ গত এক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং সামাজ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : শহরের ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র দোকানি, গ্রামের হতাশ তরুণ কিংবা চাকরির আশায়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited